One Stop Digital Education Portal
মোলের ধারণা ও রাসায়নিক গণনা
Price: Free Course Post By: Nazrul সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: 05 Sunday 2020

রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় কী পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ বিক্রিয়ক হিসেবে ব্যবহার করেন, কী পরিমাণ উৎপাদ ও পার্শ্ব উৎপাদ এবং কী পরিমাণে অপ্রয়োজনীয় পদার্থ উৎপন্ন হয় তা রসায়নবিদগণের হিসাব করা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে রাসায়নিক শিল্পে আর্থিক বিবেচনায় এই হিসাব অত্যাবশ্যকীয়। এজন্য রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত ও উৎপন্ন পদার্থের অণুর সংখ্যা, অণুতে পরমাণু ও আয়নের সংখ্যা গণনা করতে হয়। অণু, পরমাণু ও আয়ন এত ক্ষুদ্রকণা যে এদেরকে জোড়া, হালি, ডজন, শত, হাজারে এমনকি কোটিতেও গণনা করা সম্ভব হয় না। রসায়নবিদগণ অণু, পরমাণু ও আয়ন গণনার জন্য একটি বৃহৎ সংখ্যা ব্যবহার করেন। এই সংখ্যার মান 6.02 x । ইটালিয়ান বিজ্ঞানী অ্যামেডিও অ্যাভোগেড্রোর (Amedeo Avogadro) নাম অনুসারে একে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যা বা অ্যাভোগেড্রো ধ্রুবক বলে।6.02 x সংখ্যক অণু, পরমাণু বা আয়ন ধারণকারী পদার্থের পরিমাণকে মোল বলে। রসায়নে অণু পরমাণু বিক্রিয়ক, উৎপাদ ইত্যাদি হিসাব নিকাশ Stoichiometry নামে পরিচিত।
মোল শব্দটি জীববিজ্ঞান ও রসায়নে ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। জীববিজ্ঞানে মোল দ্বারা লোমবিশিষ্ট ক্ষুদ্র প্রাণ এবং রসায়নে মোল শব্দ দ্বারা কোনো রাসায়নিক পদার্থের নির্দিষ্ট পরিমাণকে বুঝানো হয়। মোল হলো রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের একক। যেমন, ডিম বা কলা গণনার জন্য হালি ও ডজন একক ব্যবহার করা হয় একইভাবে রাসায়নিক পদার্থের কণা গণনার জন্য মোল একক ব্যবহার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ এক মোল পানি বলতে 6.02 x সংখ্যক পানির অণুকে বুঝানো হয়। ডিম বা কলার এক ডজন গণনার মাধ্যমে হিসাব করা সম্ভব হলেও এক মোলকে গণনার মাধ্যমে হিসাব করা সম্ভব নয়। রাসায়নিক পদার্থের এই পরিমাণকে ভর হিসেবে পরিমাপ করা হয়। অর্থাৎ মোলের সাথে ভরের একক গ্রাম/মিলিগ্রাম -এর স ম্পর্ক রয়েছে। রাসায়নিক পদার্থের পারমাণবিক ভর অথবা আণবিক ভরকে গ্রাম এককে প্রকাশ করলে যে পরিমাণ পাওয়া যায় তাই সংশি -ষ্ট পদার্থের এক মোল।
কোনো রাসায়নিক পদার্থের যে পরিমাণে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক (6.02 x ) অণু, পরমাণু বা আয়ন থাকে তাকে পদার্থের মোল বলে। সংখ্যাটি এত বড় যে পৃথিবীর সকল লোক একসাথে গণনা শুরু করলেও তাদের সারা জীবনের গণনার যোগফল এই সংখ্যার সমান হয় না। অ্যাভোগেড্রো সংখ্যাকে 602 000 000 000 000 000 000 000 হিসেবে প্রকাশ করা যায়।
কার্বনের পারমাণবিক ভর 12। অর্থাৎ এক মোল কার্বনে 6.02 x টি পরমাণু থাকে যার ভর 12 গ্রাম। পানির আণবিক ভর 18। অর্থাৎ এক মোল পানিতে 6.02 x টি অণু থাকে যার ভর 18 গ্রাম।
অনুরূপভাবে: 1 মোল হাইড্রোজেন পরমাণু = 1008 গ্রাম = 6.02 x টি পরমাণু। 1 মোল অক্সিজেন পরমাণু = 16 গ্রাম = 6.02 x টি পরমাণু। 1 মোল অক্সিজেন অণু = 32 গ্রাম = 6.02 x টি অণু। 1 মোল কার্বন -ডাই-অক্সাইড = 44 গ্রাম = 6.02 x টি অণু।
মোলার আয়তন
এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে। কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় পদার্থের মোলার আয়তন বিভিন্ন হয়। কঠিন ও তরল পদার্থের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদার্থের এক মোলের আয়তন বিভিন্ন হয়। কিন্তু প্রমাণ অবস্থায় বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থের এক মোলের আয়তন সমান হয়। পদার্থের আয়তন চাপ ও তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল। তাপমাত্রা বৃদ্ধি/হ্রাস করলে পদার্থের আয়তন বৃদ্ধি/হ্রাস পায়। অপরদিকে চাপ বৃদ্ধি করলে গ্যাসের আয়তন হ্রাস পায়। তাপমাত্রা ও চাপ পরিবর্তনে গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন অত্যধিক পরিমাণে পরিবর্তিত হয়। তাই গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন হিসাব করার সময় চাপ ও তাপমাত্রা উল্লেখ করা প্রয়োজন। তোমরা এখানে শুধুমাত্র প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসীয় পদার্থের মোলার আয়তন শিখবে। 25° তাপমাত্রা এবং 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপকে প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপ বলে। প্রমাণ অবস্থায় যে কোনো গ্যাসীয় পদার্থের মোলার আয়তন 22.4 লিটার।
1 মোল বা 44 গ্রাম কার্বন -ডাই -অক্সাইডের আয়তন প্রমাণ অবস্থায় 22.4 লিটার। একইভাবে 1 মোল বা 32 গ্রাম অক্সিজেনের আয়তন প্রমাণ অবস্থায় 22.4 লিটার এবং 1 মোল বা 2 গ্রাম হাইড্রোজেনের আয়তনও প্রমাণ অবস্থায় 22.4 লিটার।