One Stop Digital Education Portal
আলোর প্রতিফলন
Price: Free Course Post By: Mehedi সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: 05 Sunday 2020

যে সকল বস্তু নিজে থেকেই আলো বিকিরন করে তাদেরকে আলোক উৎস ( source of light ) বলা হয় । এই আলোক উৎস দুই ধরনের হতে পারে -i》স্বপ্রভ বা স্বয়ংপ্রভ উৎস ( luminous or self-luminous source ) ও ii》নিষ্প্রভ বা অপ্রভ উৎস ( non-luminous source ) ।

স্বপ্রভ বা স্বয়ংপ্রভ উৎস হল সেইসব আলোক উৎস বা বস্তু যেগুলি নিজের আলো নিজেই বিকিরণ করে ( অর্থাৎ নিজের আলো নিজেই উৎপন্ন করে ) । যেমন :- সূর্য, নক্ষত্র, বৈদ্যুতিক বাল্ব, জ্বলন্ত মোমবাতি ইত্যাদি । অন্যদিকে যে সব বস্তুর নিজস্ব কোনো আলো নেই, স্বপ্রভ বস্তু থেকে পাওয়া আলো প্রতিফলিত করে আলোকিত হয়, সেইসব বস্তুকে নিষ্প্রভ বা অপ্রভ উৎস বলে ।

আমাদের চারপাশের বস্তুগুলির অধিকাংশই হল নিষ্প্রভ বস্তু । চাঁদ ও গ্রহগুলিও হল নিষ্প্রভ । এই বস্তুগুলি সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে বলেই আমরা এদেরকে আলোকিত দেখি । সুতরাং আলোর প্রতিফলন না ঘটলে আমরা কোনো নিষ্প্রভ বস্তুকেই দেখতে পেতাম না । যেমন দিনের বেলায় আকাশে সূর্য দেখতে পেতাম ঠিকই, কিন্তু রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ইত্যাদি সবকিছুই দৃষ্টির অগোচরে থাকত । স্পষ্টতই আলোর প্রতিফলন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ।
প্রতিফলনের শ্রেণীবিভাগ

সমতল দর্পণে আলোর নিয়মিত প্রতিফলনের চিত্র

আলোর ব্যাপ্ত প্রতিফলন
প্রতিফলক পৃষ্ঠের প্রকৃতি আনুযায়ী আলোর প্রতিফলন দু ধরনের হতে পারে, যথাঃ নিয়মিত প্রতিফলন ও ব্যাপ্ত প্রতিফলন।

নিয়মিত প্রতিফলন
যখন একগুচ্ছ সমান্তরাল আলোকরশ্মি কোন পৃষ্ঠে আপতিত হয়ে প্রতিফলনের পর সমান্তরাল থাকে বা অভিসারী কিংবা অপসারীগুচ্ছে পরিণত হয়, তবে আলোর সেই প্রতিফলনকে নিয়মিত প্রতিফলন বলে। প্রতিফলক পৃষ্ঠ মসৃণ হলে যেমন- সমতল দর্পণে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন হয়। এক্ষেত্রে প্রতিটি আলোক রশ্মির আপতন কোণ সমান হয় ও প্রতিফলন কোণগুলোও সমান হয়। গ্রিসের প্রখ্যাত গণিতবিদ এবং ইঞ্জিনিয়ার- হীরন[২][৩] সর্বপ্রথম আলোর নিয়মিত প্রতিফলনের ধর্ম লক্ষ্য করেন।

ব্যাপ্ত প্রতিফলন
যদি একগুচ্ছ সমান্তরাল আলোক রশ্মি কোন পৃষ্ঠে আপতিত হয়ে প্রতিফলনের পর অসমান্তরাল হয় বা অভিসারী বা অপসারীগুচ্ছে পরিণত না হয় তবে আলোর সেই প্রতিফলনকে ব্যাপ্ত প্রতিফলন বলে। প্রতিফলক পৃষ্ঠ সমান্তরাল না হলে এরূপ হয়। এক্ষেত্রে সমান্তরাল রশ্মিগুলো প্রতিফলকপৃষ্ঠের বিভিন্ন বিন্দুতে বিভিন্ন কোণে আপতিত হয় বলে তাদের প্রতিফলন কোণও আলাদা হয়।প্রতিফলন এর উদাহরণ হিসেবে আয়না বলা যায়।
আলোর প্রতিফলনের সূত্র

আলোর প্রতিফলনের সূত্রগুলোর প্রামাণস্বরূপ উদাহরণ
প্রতিফলক পৃষ্ঠ মসৃণ হলে আলোর প্রতিফলন প্রধানত তিনটি সূত্র মেনে চলে, যথা-

আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অভিলম্ব এবং প্রতিফলিত রশ্মি একই সমতলে থাকে।[১][৪]
আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান হয়।[১][৪]
আপতিত রশ্মি ও প্রতিফলিত রশ্মি সর্বদা অভিলম্বের বিপরীত পার্শ্বে অবস্থান করে।
তথ্যসূত্র